কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টো লেনদেনের অভিযোগ, সাময়িক বরখাস্ত প্রকাশিত: ১:১৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২৬ ব্যাংক বীমা অর্থ নিউজ ডেস্ক: অনলাইন জুয়া, অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মো. রকিবুল হাসান খান রকি, যিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। আদেশে উল্লেখ করা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশাসনিক বিধিমালা অনুযায়ী তিনি নির্ধারিত নিয়মে খোরপোশ ভাতা পাবেন। আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের হলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাময়িক বরখাস্ত রাখার বিধান রয়েছে। সেই বিধান অনুসারেই এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে। তবে অভিযানের আগেই তিনি বিষয়টি জানতে পেরে কৌশলে সেখান থেকে সরে যান। এরপর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতেন। তদন্তে এসব হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, এসব লেনদেনের একটি বড় অংশ অনলাইন জুয়া এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অভিযুক্তের আর্থিক লেনদেন, অর্থের উৎস এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে। প্রয়োজনে অর্থ পাচার, সাইবার অপরাধ ও আর্থিক অনিয়মের সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, রকিবুল হাসান খান রকি অফিসে অত্যন্ত নিরিবিলি স্বভাবের ছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে তার খুব বেশি মেলামেশা ছিল না এবং তিনি নিজের কাজ নিয়েই অধিকাংশ সময় ব্যস্ত থাকতেন। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় অনেক সহকর্মী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মো. রকিবুল হাসান খান রকির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আর্থিক খাতের সুশাসন ও ভাবমূর্তির জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষ করে অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টোকারেন্সির অবৈধ লেনদেনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে দেশের ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা ও জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকও জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: