জ্বালানি সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি : দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত সমাধান হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এ সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা ছয় মাস বা এক বছরে সমাধান করা সম্ভব নয়। সংকট কাটিয়ে উঠতে ন্যূনতম দুই বছর সময় লাগবে। নতুন ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণ করতেই দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ছাড়া অর্থনীতির অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই সম্ভাব্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সরকার দ্রুত সেগুলো নিচ্ছে। দীর্ঘদিন দেশে গ্যাস অনুসন্ধান হয়নি। এখন অনুসন্ধানের কাজ চলছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ নিয়েও কাজ করা হচ্ছে।

জ্বালানি খাত নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন নীতি প্রকাশ করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোন ধরনের জ্বালানি কতটা প্রয়োজন, তা নির্ধারণের কাজ চলছে। নতুন নীতি প্রকাশের পর জ্বালানি খাতে সরকারের করণীয় সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

সংকটের এই সময়ে আগামী দুই বছর সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে বলেও মন্তব্য করেন আমির খসরু।

রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন ও নীতি বিভাগ আলাদা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট হারে কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ চলছে।

পুঁজিবাজার নিয়ে আমির খসরু বলেন, বাজারে সতর্কসংকেত পাওয়ার পর সেখানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি তালিকাভুক্ত কোম্পানি প্রয়োজন।

ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে মূলধনের ঘাটতি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই ঘাটতির পরিমাণ এত বেশি যে সরকারের পক্ষে এককভাবে তা পূরণ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের পরিমাণও অনেক বেশি। এ কারণে ব্যাংকনির্ভরতার বাইরে অর্থায়নের বিকল্প উৎস তৈরি করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল।